শুক্রাণু বা ডিম্বাণু ডোনারের মাধ্যমে কিভাবে সন্তান নেয়া যায়…

এই ছোট্ট পৃথিবীতে সব প্রাণী তার বংশধর রেখে যেতে চায়….

আমরা হয়তো পরিচিত আছি একটি বিখ্যাত উক্তির সাথে..
“আমার সান্তান যেনো থাকে দুধে ভাতে”.. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিখ্যাত উক্তি।

গতকাল লঞ্চ থেকে বাস ডুবে গিয়েছিল… সেখানে এক মা তাঁর সন্তান কে জানালা দিয়ে উপরে পাঠিয়ে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন।

এগুলো হলো….সন্তানের প্রতি বাবা-মা র ভালোবাসা, বংস রক্ষার লড়াই।

কিন্তু সাধারণ ভাবে বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও যখন কোন দম্পতি সন্তানের সুখবর পান তখন…তাদের সব থাকে কিন্তু হৃদয়ে সুখ থাকে না।

আজ আমরা জানবো…শুক্রাণু বা ডিম্বাণু ডোনারের মাধ্যমে কিভাবে সন্তান নেয়া যায়..?

আর ইসলামিক দৃষ্টিতে সেটা জায়েজ নাকি নাজায়েজ?

-> ডোনার (Donor):

​যখন কোনো দম্পতি নিজেদের শুক্রাণু (Sperm) বা ডিম্বাণু (Egg) ব্যবহার করে সন্তান ধারণে অক্ষম হয়,

তখন তৃতীয় কোনো সুস্থ ব্যক্তির থেকে শুক্রাণু বা ডিম্বাণু ব্যবহার করে সন্তান ধারণ করা হয়। তখন ঐ তৃতীয় ব্যক্তিকে বলা হয় ডোনার।

যেহেতু সন্তান জন্ম দিতে বাবা-মা দুজনের প্রয়োজন হয়…তাই ডোনার ও দুই প্রকার হতে পারে…..

শুক্রাণু (Sperm) ডোনার:-

যদি বাবার শুক্রাণুতে সমস্যা থাকে….

ডিম্বাণু (Egg)ডোনার :-

যদি মায়ের ডিম্বাণুর গুণগত মান বা সংখ্যা কম থাকে।

-> ডোনার (তৃতীয় ব্যাক্তির শুক্রাণু বা ডিম্বাণু) নিয়ে বাচ্চা নেওয়ার প্রক্রিয়া…..

​ডোনারের সহায়তায় সন্তান গ্রহণের প্রধানত দুটি জনপ্রিয় পদ্ধতি রয়েছে :-

-> ​IUI (Intrauterine Insemination) :-

এটি তুলনামূলক সহজ পদ্ধতি। এখানে ডোনারের শুক্রাণু সরাসরি সন্তান নিতে আগ্রহী মায়ের জরায়ুতে স্থাপন করা হয়।

-> ​IVF (In-vitro Fertilization) :-

এই পদ্ধতিতে ল্যাবরেটরিতে ডোনারের শুক্রাণু বা ডিম্বাণুর সাথে মিলন ঘটিয়ে ভ্রূণ তৈরি করা হয় এবং পরবর্তীতে তা মায়ের জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়।

***ইসলামে ডোনারের মাধ্যমে (তৃতীয় ব্যাক্তির শুক্রাণু বা ডিম্বাণু নিয়ে) সন্তান গ্রহণের বিষয়টি হারাম***

অধিকাংশ নির্ভরযোগ্য ফতোয়া এবং ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞের মতে….

(যেমন: আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় বা ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ফিকহ একাডেমি) এই বিষয়টি নিয়ে প্রধান সিদ্ধান্তগুলো হলো…….

​-> নিজে স্বামী-স্ত্রী ছাড়া বাইরে অন্য কারো শুক্রাণু বা ডিম্বাণু নিয়ে সন্তান গ্রহণ করা হারাম।

​-> কিন্তু যদি কোনো কারনে স্বামী -স্ত্রীর শুক্রাণু এবং ডিম্বাণু জরায়ু র ভিতরে মিলিত হয়ে গর্ভধারণ সম্ভব না হয় তবে,

স্বামী এবং স্ত্রীর নিজস্ব শুক্রাণু ও ডিম্বাণু ব্যবহার করে কৃত্রিম প্রজনন (যেমন: IVF বা টেস্ট টিউব বেবি) করা হয়, তবে তা ইসলামে জায়েজ।

-> তৃতীয় পক্ষের ডোনার নিষিদ্ধ

এর অনেকগুলো কারন আছে…

যেমন, সন্তানের…
​বংশ পরিচয় নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়। ইসলামে সন্তানের বংশ পরিচয় ও পৈতৃক সম্পত্তির মালিকানার ব্যাপার টা খুবই গুরুত্বের সাথে দেখা হয়।

তাই হালালভাবে বিবাহের মাধ্যমে জৈবিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে যে সন্তান হয় সে, বাবার পরিচয় নিশ্চিত রাখে এবং এটি ফরজ একটি বিধান।

অন্যের শুক্রাণু বা ডিম্বাণু ব্যবহার করলে বংশগতি নিয়ে অস্পষ্টতা তৈরি হয়।

​বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক :-

যদিও এটি শারীরিক মিলন নয়, তবুও তৃতীয় কারো বীর্য বা ডিম্বাণু ব্যবহার করাকে এক ধরণের আধ্যাত্মিক ও আইনি পবিত্রতা নষ্ট হওয়া হিসেবে গণ্য করা হয়।

​উত্তরাধিকার আইন :-

ডোনারের মাধ্যমে হওয়া সন্তানের উত্তরাধিকার বা মিরাস নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এছাড়াও… যার শুক্রাণু নিয়ে সন্তান নেয়া হয় তার প্রাতি ঐ মহিলার মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে একটা টান শুরু হয়ে যায়…

সন্তানের চেহারা দেখে তাকে কল্পনায় আনা….এমন কি পুনরায় তার থেকে সন্তান নেয়ার ইচ্ছা পোশন করা।

শয়তানের ধোকায় পড়ে এভবে পরোকিয়ার সম্পর্ক তৈরি হতেও পারে।

Dr. Rezbaul Hasan Royal

Show Comments (0) Hide Comments (0)
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x
Verified by MonsterInsights