বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন..

বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন।


সর্দি-জ্বর, শরীর ম্যাজম্যাজ করা, অরুচি, কাশি, গায়ে ব্যাথা, মাথা ব্যাথা….বাচ্চা, যুবক, বৃদ্ধ সবাই আক্রান্ত হচ্ছেন। এমন কি একি পরিবারে সবাই আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতিদিন প্রায় ২০-২৫ জন রোগী পাচ্ছি যাদের উপরের সমস্যা গুলো আছে। এমনকি নিজেও কিছুদিন ভুগেছি। জুলাই মাসে যার সর্দি-জ্বর, কাশি হয়নি তাকে একপ্রকার রোবট ই বলা চলে…….

জুলাই আগষ্টে সারা বাংলাদেশে সর্দি জ্বর দেখা যায়, প্রথমে সর্দি, পরে জ্বর…শরীর ব্যাথা তারপর কাশি শুরু….

এইসব জ্বরের মূল কারণ হচ্ছে ভাইরাস। যেমন Influenza virus, Respiratory synsytial virus ইত্যাদি দিয়ে infection. অর্থাৎ সর্দি যুক্ত জ্বর গুলি সব ভাইরাস জ্বনিত রোগ।

এছাড়াও প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টি হচ্ছে, আবার খরা দেখা দিচ্ছে। এতে করে ডেঙ্গু বিস্তার লাভ করছে। উল্লেখ্য যে, এডিস মশা নতুন পানিতে ডিম পাড়তে পছন্দ করে। এই এডিস মশা দিয়ে ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া, জিকা ভাইরাসের মতো রোগ ছড়ায়…..

জ্বর আসা মানেই হলো শরীরে জীবাণুর সংক্রমণ। যা ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়া দিয়ে হচ্ছে। এখন কোনটা ভাইরাল কোনটা ব্যাকটেরিয়াল জ্বর বুঝবো কিভাবে

ভাইরাস জনিত জ্বর শুরু হয় সর্দি দিয়ে, সাথে শরীর ব্যাথা, অরুচি, স্বাদ ও গন্ধহীনতা থাকে এবং জ্বর অনেক বেশি হয়। ১০২-১০৪° ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে।

অপর দিকে ব্যাকটেরিয়া জনিত জ্বরে সাধারণত সর্দি থাকেনা, ব্যাকটেরিয়া জনিত জ্বরের মধ্যে যেমন, টাইফয়েড, গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস, টিবি, প্রস্রাবের ইনফেকশন…. ইত্যাদি।

ব্যাকটেরিয়া দিয়ে, জ্বর হলে চিকিৎসার জন্য Antibiotics প্রয়োজন হয়। ভাইরাস দিয়ে জ্বর হলে এন্টিবায়োটিক এর কোন কাজ নাই।

যে জ্বর সর্দি দিয়ে শুরু হয়, কিংবা জ্বরের সাথে সর্দি থাকে, শরীর ব্যাথা থাকে তা ভাইরাস জ্বর।

ভাইরাস জ্বর হলে বুঝে নিতে হবে, এইটা ভালো জ্বর। মানে কোন এন্টিবায়োটিক লাগবেনা, জ্বর ৪-৭ দিন থাকতে পারে। ভাইরাস জ্বরে এন্টিবায়োটিক দরকার নেই। এই জ্বর ১০১-২ ডিগ্রি দিয়ে শুরু হয়, এবং বাচ্চাদের ১০৪-৬ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে, ৩-৪ দিন এইভাবে জ্বর উঠানামা করে। এখানে ভয়ের কিছু নাই। এই জ্বর হাজার মেডিসিন দিলেও ৪-৭ দিন থাকবেই।

এই জ্বর ৪-৭ দিনে ভালো হয়ে গেলে শুরু হয় কাশি, শুকনা কাশী, কাশিতে অনেক কষ্ট হয়, কারো ১৫ দিন, কারো ১ মাস, কারো ২ মাস ও থাকতে পারে।

ভয়ের কিছু নেই।

কেবল মনে রাখুন, যে জ্বরে সর্দি কিংবা নাকের পানি পড়ার হিস্ট্রি থাকে, সেই জ্বরে এন্টিবায়োটিক লাগেনা।

বয়স্করা Tab. Napa one, ৮ ঘন্টা পরপর খাবেন।
জ্বর ১০২ ডিগ্রির বেশি থাকে, তাহলে সাথে Napa 500 suppository দিবেন, যে বেলায় সাপোজিটরি দিবেন, ওই বেলায় Napa one Tablet বন্ধ থাকবে।

এছাড়া, নরমাল তাপমাত্রায় ট্যাপের পানি দিয়ে গা মুছে দিয়ে ফ্যানের বাতাসে শুকাতে পারেন। এভাবে বাষ্পাকারে শরীরের তাপমাত্রা কমে যাবে।

****মনে রাখবেন, কখনোই ফ্রিজের ঠান্ডা পানি দিয়ে গা মুছে দিবেন না। এসি রুমেও শরীরের তাপমাত্রা কমে না।

রুম টেম্পারেচা এ নরমাল পানি দিয়ে গা মুছে দিলে তা শরীরের তাপমাত্রা কমায়।

জ্বরের সাথে প্রচন্ড নাক বন্ধ হয়ে থাকে, যাদের নাক বন্ধ হয়ে থাকে, তারা নাকে Antazol nasal drop দিবেন ১ ফোটা ২ নাকে দিন ২ বার ৫ দিন।

আর যাদের নাক দিয়ে পানি পড়ে, তারা Fexofenadine 120 mg প্রতিদিন একটা করে খাবেন। নাকের পানি পড়া বন্ধ হওয়া পর্যন্ত।

বাচ্চদের জন্য Norsol / Nosomist nasal drop ইউজ করবেন। Napa syrup প্রতি কেজিতে ১৫ মিলিগ্রাম করে হিসেব করে দিতে হবে।

উল্লেখ্য যে, এক চামুচ নাপা সিরাপ এ 120mg থাকে। একচামুচ মানে ৫মিলিগ্রাম। অর্থাৎ ৫মিলি নাপা সিরাপ মানে ১২০মিলিগ্রাম নাপা সিরাপ।

তাহলে বাচ্চার ওজন ১০ কেজি ওজনের বাবুর জন্য

১০×১৫= ১৫০মিলিগ্রাম নাপা সিরাপ পাবে দিনে তিনবার।

৫ মিলি তে থাকে ১২০মিলিগ্রাম তাহলে ১০ কেজি ওজনের বাচ্চা পাবে ৬মিলির একটু বেশি মিলি নাপা সিরাপ।

৫মিলিতে থাকে ১২০mg
১মিলিতে থাকে ২৪mg

৬মিলি তে থাকে ১৪৪mg

বাচ্চা পাবে ১৫০mg

তার মানে ৬মিলির একটু বেশি দিলেই হবে দিনে ৩ বার।

আর নরমাল তাপমাত্রার পানি দিয়ে গা মুছে দিতে হবে। (Tapid sponging)

কাশির জন্য….
এই ধরণের সর্দিজ্বরের পর প্রচন্ড কাশি শুরু হয়, কাশির বাজারে অনেক সিরাপ পাওয়া যায়, তবে এই ধরণের শুকনো কাশিতে Bukof ভালো কাজ কর।
সাথে Fexofenadine 120mg।

সাথে পর্যাপ্ত বেড রেস্ট, রসালো ফলমূল, ORS, ডাবের পানি, কলা, চিড়া পানি ইত্যাদি প্রচুর খেতে হবে।

আর যদি কোন পেশেন্টের ভাইরাস জ্বর পরবর্তী productive cough শুরু হয়, তাহলে হলে সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়ার infection suspect করা যেতে পারে, তখন prophylactic antibiotics প্রয়োজন হতে পারে। সাথে Smoking হিস্ট্রি, ডায়াবেটিস, প্রেসার, এ্যাজমা থাকলে অবশ্যই MBBS ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

আবার গলা ব্যাথা হলেও সেকেন্ডারি ইনফেকশন সাসপেক্ট করা হয়। MBBS ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

এই জ্বরে আরেকটা সমস্যা হচ্ছে জ্বর ভালো হবার পরে পুরো শরীর দূর্বল হয়ে যাওয়া, তাই জ্বর শুরু হবার পরে কিছু ভিটামিন সাপ্লিমেন্টারী শুরু করুন

Cap.D-rise 40,000IU সপ্তাহে একটা করে৪ সপ্তাহ।
Tab. Xinc- B ( দূর্বলতা কাটাবে, খাবারের রুচি বাড়াবে)
1+0+1…..১৫দিন থেকে ১মাস।

এসবের পাশাপাশি, ডেঙ্গু বা চিকনগুনিয়া এক্সক্লুড করার জন্য……

জ্বর শুরু প্রথম ৩দিনের মধ্যে

Dengue NS1Ag
CBC

টেস্ট অবশ্যই করে নেয়া উচিত।

এবং রিস্ক ফ্যাক্টর যেমন…..ডায়াবেটিস, প্রেসার, এ্যাজমা, COPD, Stroke, Heart attack এর হিস্ট্রি সহ অন্যান্য রোগ থাকলে অবশ্যই MBBS ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া অত্যন্ত জরুরী।

……ধন্যবাদ

Dr. Rezbaul Hasan
MBBS(RU), MPH, MCGP(Medicine &Surgery)
PGT (Medicine), DOC(Skin & VD)

Show Comments (2) Hide Comments (2)
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
2 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Abdul Alim
Abdul Alim
6 months ago

Wonderful explanation sir

2
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x
Verified by MonsterInsights